আইবিএর ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক আর্টিকেলের আজ অষ্টম পর্ব । আজকে আর্টিকেলটি লিখেছেন আইবিএর ৫৫ ব্যাচের ছাত্র আমিন ।

আইবিএ প্রস্তুতি দশায় সর্বদা কয়েকটি কথা মনে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করা উচিতঃ

প্রস্তুতির সময় সীমাহীন লেখাপড়া সত্যিই কোন তাৎপর্য বহন করে না।

প্রস্তুতিকালে মাথায় রাখা উচিত আপনার ধারণক্ষমতা কতখানি। আমার ধারণক্ষমতা ১গিগাবাইট আর আমি কমপ্রেসড করে ডাটা নিলাম ১.২ গিগাবাইট।
সেই কমপ্রেসড ডাটা কিন্তু এক্সাম হলে গিয়ে অবিকৃত অবস্থায় ডাউনলোড না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই, আপলোডের সময় অত্যন্ত যত্নবান এবং সাবধানী হউন।
আইবিএ এক্সামের বিগত বছরের প্রশ্নের কাঠিন্যের মাত্রা চিন্তা করে নিজেকে প্রস্তুত করুন।
অনেকে মনে করেন একটু কঠিন বিষয় অনুশীলন করি। এতে করে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
আসলে কঠিন জিনিস অনুশীলন করতে গিয়ে আপনি যখন ব্যর্থ হবেন আর অনেক সময় নষ্ট করে ফেলবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস পচণ্ডভাবে হ্রাস পাবে।
আইবিএ এর জন্য জিআরই বিগবুক কিংবা জিআরই লেভেলের রিডিং কম্প্রিহেনশন সলভ করে কোন লাভ নেই। কারণ, আইবিএতে আপনি অতীব মাত্রার সহজ রিডিং কম্প্রিহেনশনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
আর ইংরেজি পার্টে যারা দূর্বল তাদের জন্য আমার সাজেশন থাকবে কোনভাবেই রিডিং কম্প্রিহেনশনের ৫ মার্কস হাতছাড়া করা উচিত না।
তাই বলে আবার এই ৫ মার্কসের জন্য ৬ মিনিটের বেশি সময় নষ্ট করা উচিত হবে না।
নিজের উপর ভরসা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজের স্ট্র্যাটেজি নিজে তৈরি করুন।
একজন বাঙ্গালীর জন্য যেমনি কাঠি দিয়ে চাউমিন খাওয়াটা দুনিয়ার সবথেকে কঠিন কাজ, তেমনি একজন চাইনিজের জন্য হাতের পাঁচটি আঙ্গুল ব্যবহার করে মুখে ভাত প্রবেশ করানো সবথেকে কঠিন কাজ।
আপনি যার স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করছেন তার দূর্বল দিক আর আপনার দূর্বল দিক একরকম নাও হতে পারে। ম্যাথ কিংবা পাজেল নিয়ে সমস্যায় পড়লে সাথে সাথে অন্যের দ্বারস্থ না হয়ে নিজে চেষ্টা করতে থাকুন।
এতে আপনার মেধার বিকাশ হবে, ধৈর্য বাড়বে, নিজের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। নিজের সাহায্যের জন্য গ্রুপে কম পোস্ট দিবেন আর গ্রুপে কেউ পোস্ট করলে সবার থেকে আগে কমেণ্ট করার ইগো তৈরি করুন।
মানুষকে সাহায্য করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে নিজের স্কিল বাড়বে বৈ কমবে না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিটাকে সমর্থন করি না। এতে করে এই জিনিসটার প্রতি আপনার অনীহা চলে আসতে পারে। যা আপনার শরীর, মন এবং ক্যারিয়ারের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে।

থেমে থেমে ১-২ বছর ধরে প্রিপারেশন নেওয়ার থেকে টানা ৩-৪ মাস পড়ে পরীক্ষার হলে যাওয়াটা অনেক বেশি কার্যকরী বলে আমি মনে করি।
 পরীক্ষার ১৫ দিন আগে থেকে মডেল টেস্ট দেয়া শুরু করুন।
বিগত বছরের একটা করে প্রশ্ন একদিন করে এক্সাম দিবেন। এভাবেই সলভ করা হয়ে যাবে। মডেল টেস্টের সময়টা রাখবেন সকাল ১০-১২ টার মধ্যে।
এতে করে ঐ সময়টাতে আপনার মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি হয়ে যাবে। যাদের বিভিন্ন নার্ভাসনেস আছে তাদের জন্য এটা অনেক সহায়ক হবে।
তবে আমি কাউকে কোচিং এর সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করছি না। কেউ যদি মনে করেন কোচিং এর সাহায্য ছাড়া সে কুলকিনারা পাচ্ছেন না, তবে তার অবশ্যই উচিত কোচিং এ ভর্তি হওয়া।
মডেল টেস্টটাকে পরীক্ষার মর্যাদা দিন।
পরীক্ষাতে আপনি যেভাবে নিজেকে দেখতে চান মডেল টেস্টের সময় নিজেকে ঠিক সেভাবে উপস্থাপন করুন।
আমি মনে করি, ইংরেজি-এনালাইটিকাল-ম্যাথ এই ক্রমে উত্তর করাটাই সবথেকে কার্যকর উপায়। তাই, আমি প্রতি মডেল টেস্টের সময় ঠিক এই ক্রমেই উত্তর করেছি।
পরীক্ষার আগের দিন কিংবা রাতে আপনি কি করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর।
আপনি এখন পূর্ণবয়স্ক। জীবনে এর থেকে বড় পরীক্ষা আরও কমপক্ষে ৫-১০ টার মুখোমুখি হয়েছেন। তার মধ্যে বেশিরভাগই সফলতার সাথে উতরিয়েও গিয়েছেন।
তার মানে আপনার অভিজ্ঞতাও কম নয়। তাই, এইপথের অগ্রদূতদের অনুসরণ করে আপনার পরীক্ষার আগের দিন বিশ্রাম নিতে হবে কিংবা বই ধরা যাবে না এরকম কেউ মাথার দিব্যি দেয় নি।
আমি আমার এক্সামের আগের দিন রাতে লঞ্চ জার্নি করেছি তার মধ্যে পড়েছি। আমার ঘুম খুব বেশি। এক্সামের আগের রাতেও যথারীতি প্রচুর ঘুম পায়।
তবু জোর করে জেগে থেকে রিভিশন দেই। এটাই আমার স্বভাব। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষা, জিআরই, বিসিএস, আইবিএ সব এক্সামই তো এভাবে দিয়ে আল্লাহর রহমতে পার পেলাম।
আপনার স্ট্র্যাটেজি অনুসারে আপনি চলুন। তাই, আপনাকে বেস্ট স্ট্র্যাটেজিটা বেছে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
রুটিন করে পড়াশুনা করতে বলব না। তবে, প্রতিটা সাবজেক্ট প্রতিদিন ১ ঘণ্টার জন্য হলেও অনুশীলন করুন।
এতে করে চর্চার মধ্যে থাকবেন। তা না হলে দেখবেন, আপনাকে জড়তায় পেয়ে বসবে। আমি আমার সকাল শুরু করতাম নামাযের পর ২ ঘণ্টা ধরে ওয়ার্ড পড়ে আর আগের দিনের ওয়ার্ড রিভাইস করে।
আর ঘুমোতে যাবার আগে ৩০ মিনিট ধরে জিআরই বিগ বুকের একটি টেস্টের এক সেকশনের পাজল সলভ করতাম। ৩০ দিনের এই রুটিনেই আমি এনালাইটিকাল সেকশনে ১৪ মার্কস নিশ্চিত করেছিলাম।
 
জীবনে সফল হবার জন্য আইবিএ শেষ কথা না।
এটা হতে পারে যে, আইবিএ তে ভর্তি হলেন মানে রাতারাতি কিছু মানুষের চোখে স্টার হয়ে গেলেন কিন্তু তার মানে এই না যে আপনি রাতারাতি সফলতাকে আপনার হাতের মুঠোয় পেয়ে গেলেন।
তাই, আইবিএফোবিয়াতে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। পরিশ্রম ক্যারিয়ারের জন্য সুফল বয়ে আনে কিন্তু, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম শরীরের জন্য কুফল বয়ে আনে।
মনে রাখবেন আপনি না থাকলে আপনার ক্যারিয়ার বলে আর কিছু থাকবে না। আর কিছু ব্যাপার আপনার সৃষ্টিকর্তার হাতেই ছেড়ে দিন না!
Just watch and enjoy how he plays with you. নিজ নিজ ধর্মীয় প্রার্থনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখুন।
বিশ্বাস করুন, এই কাজটি নিয়মিত করলে আপনার মানসিক প্রশান্তি মিলবে আর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারও উপর ভরসা করতে হবে না।

Capstone প্রিমিয়াম জব প্রিপারেশন কোর্সে ৩,০০০ টাকা ডিস্কাউন্টে ভর্তি চলছে । আগ্রহীরা এই ডক ফাইলটি ফিল-আপ করুন

যে স্পেশাল ব্যাচগুলো থেকে এবার আইবিএর এমবিএতে ১৭ জন রিটেনে কোয়ালিফাই করেছে সে স্পেশাল ব্যাচগুলোতে আইবিএ এমবিএর জুন’ ১৭ ইনটেকের জন্য সীমিত সংখ্যক আসনে ভর্তি চলছে । আগ্রহীরা এই ডক ফাইলটি ফিল-আপ করুন

যারা আইবিএ / ব্যাংক জবস / ইএমবিএ / বিআইবিএম এর ফ্রি সাজেশন ও টিপস চান তারা আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে পারেন । জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন ।

সরকারী ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মাল্টি ন্যাশনাল ও ফাইনান্সিয়াল ইন্সটিটিউটগুলোতে চাকরীর মূল্যবান পরামর্শ ও দিক নির্দেশনার জন্য জয়েন করুন এই গ্রুপে 

যোগাযোগঃ 01972-277866 or 016 30 31 30 31

ঠিকানাঃ ৭৫ গ্রীন রোড, হুসেন টাওয়ার (লিফটের-৮), এশিয়া প্যাসিফিক ইয়ুনিভার্সিটির ঠিক পাশের বিল্ডিং, ফার্মগেট, ঢাকা-১২০৫।